বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬ - ২০:৫৭
নাইজেরিয়া ও ইরান যৌথ চলচ্চিত্র প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যমবিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টার বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতাকে সীমিত পরিসর ছাড়িয়ে যৌথ চলচ্চিত্র প্রকল্প ও একটি ‘চলচ্চিত্র নগরী’ প্রতিষ্ঠার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, নাইজেরিয়ায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা সাইয়েদ হাসান হায়দারি এবং নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যমবিষয়ক বিশেষ সহকারী রাহমা শরিফ আবদুলমজিদ-এর বৈঠকে গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র, সৃজনশীল শিল্প, ডিজিটাল কনটেন্ট উৎপাদন এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের গণমাধ্যম, হাউসা চলচ্চিত্রশিল্প এবং সরকারি ও প্রাদেশিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে রাহমার বিস্তৃত যোগাযোগ থাকায়, বৈঠকটিকে নাইজেরিয়ায় ইরানের জনকূটনীতি ও সাংস্কৃতিক কূটনীতি জোরদারের জন্য উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে হায়দারি ইরানের ‘নেটওয়ার্ক কূটনীতি’ সম্প্রসারণের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে দুই দেশের গণমাধ্যম ও শিল্পক্ষেত্রের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি ইরান ও নাইজেরিয়ার সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারককে যৌথ সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপযুক্ত আইনি ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি প্রস্তাব দেন, দুই দেশের সম্পর্ক যেন সীমিত সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মধ্যে আবদ্ধ না থেকে যৌথ গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রকল্পে সম্প্রসারিত হয়।

ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা বৈঠকে কয়েকটি বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ইনফ্লুয়েন্সার ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ‘নেটওয়ার্ক কূটনীতি’ সম্প্রসারণ, নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্রবাজারে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ও একটি পৃথক ইরান বিভাগ প্রতিষ্ঠা, নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি চলচ্চিত্রের উপস্থিতি বাড়ানো এবং ইরানে নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্র পরিচিত করার সুযোগ সৃষ্টি।

এ ছাড়া দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে বিশেষায়িত সমঝোতা স্মারক, হোম ভিডিও ও অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা, যৌথ চলচ্চিত্র ও অ্যানিমেশন নির্মাণ, ইরানের গণমাধ্যমকর্মীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চলচ্চিত্রের বয়সভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা, অ্যানিমেশন খাতে ইরানি ও নাইজেরীয় কোম্পানির অংশীদারত্ব এবং ইরানের গণমাধ্যমের হাউসা ভাষায় কনটেন্ট-যেমন ‘ইরান ভাইব’ প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ-প্রচারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ইন্টারনেটভিত্তিক গণমাধ্যম ও অনলাইন টেলিভিশনের সঙ্গে সহযোগিতা, যৌথ মিডিয়া কনটেন্ট উৎপাদন, ডিজিটাল মিডিয়া, ব্লগিং ও কনটেন্ট নির্মাণ বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, যৌথ VOD প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা, যৌথ টকশো ও ভিডিও পডকাস্ট নির্মাণ, ‘ইরান সম্পর্কে বলুন’ প্রচারণা এবং নির্বাচিত ইনফ্লুয়েন্সারদের গবেষণামূলক সফরে ইরানে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকীতে মাজিদ মাজিদির নির্মিত ‘মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা.)’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকে রাহমা শরিফ আবদুলমজিদ এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন এবং সে সময় তার প্রধান লক্ষ্য ছিল নাইজেরিয়ার বিনোদনশিল্পে ‘হালাল বিনোদন’ সম্প্রসারণ ও সাংস্কৃতিক-ইসলামি পরিচয় শক্তিশালী করা। তার মতে, বিনোদন বাদ দেওয়ার পরিবর্তে সেটিকে সাংস্কৃতিক ও ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সংশোধিত রূপ দেওয়া উচিত।

রাহমা টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘আল-মিরাজ’ ও ‘আল-খলিফা’-তে অধ্যাপক ‘মাকারি’র সঙ্গে পূর্ববর্তী সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের গণমাধ্যম প্রযোজনার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হজরত ইউসুফ (আ.)-এর ধারাবাহিকটি হাউসা ভাষায় অনুবাদের জন্যও উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি ইরান ও নাইজেরিয়ার সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারককে দুই দেশের সম্পর্ক সহজতর করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নমূলক সহযোগিতা শুরুর আহ্বান জানান।

রাহমার ভাষ্য অনুযায়ী, তার কার্যালয়ের সঙ্গে নাইজেরিয়ার সংস্কৃতি, শিল্প, পর্যটন ও সৃজনশীল শিল্প মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার প্রস্তুতি রয়েছে।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যমবিষয়ক বিশেষ সহকারী ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ‘নেটওয়ার্ক কূটনীতি’র কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নাইজেরিয়া সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং দেশটির মানুষের মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ছে।

তার দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময়ও নাইজেরিয়ার বহু মুসলিম এবং এমনকি কিছু কূটনীতিক প্রকাশ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় ভাষায় প্রচারণা চালিয়ে ইরানের বয়ান তুলে ধরতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

রাহমা জানান, নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ গণমাধ্যম তার যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সহযোগিতা করে। প্রয়োজন হলে ব্যাপক গণমাধ্যম প্রচারণা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন এবং যৌথ বার্তাকে ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের গণমাধ্যম ব্যবহারের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশটির উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ফেসবুক ও টিকটক ব্যবহার করেন। অন্যদিকে দক্ষিণ নাইজেরিয়ায় এক্স—পূর্বের টুইটার—তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয়। ইনস্টাগ্রামে স্বল্পদৈর্ঘ্যের বিনোদনমূলক কনটেন্ট ভালো ফল দেয়, আর দীর্ঘ কনটেন্ট মূলত ইউটিউবের মাধ্যমে দেখা হয়।

চলচ্চিত্র খাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্রবাজারে অংশগ্রহণকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাহমা উত্তরাঞ্চলের গণমাধ্যম দর্শকের বিশাল পরিসরের তথ্য তুলে ধরেন।

তার মতে, Arewa24-এর প্রায় ৬ কোটি দর্শক এবং ইউটিউবের প্রায় ২ কোটি দর্শক রয়েছে। সব মাধ্যম মিলিয়ে দর্শকের সংখ্যা ৯ কোটিরও বেশি।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যমবিষয়ক বিশেষ সহকারী দেশটির সাংস্কৃতিক, শিল্প ও সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন, যার বার্ষিক লেনদেন ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি বলে তিনি জানান।

তিনি প্রস্তাব দেন, সহযোগিতা যেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং কানো, জিগাওয়া ও সোকোতো প্রদেশের সক্ষমতাও কাজে লাগানো হয়।

রাহমার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রদেশের নিজস্ব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে জিগাওয়া উত্তর নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্রশিল্পের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী তার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘নানা আসমা’ নির্মাণের বৃহৎ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে এ প্রকল্পে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

তার মতে, সোকোতো সালতানাত, কেন্দ্রীয় সরকার, জিগাওয়া রাজ্য সরকার এবং ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (আইসেস্কো)-এর সমর্থন ইতোমধ্যে প্রকল্পটির জন্য নিশ্চিত হয়েছে এবং শিগগিরই চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হবে।

চলচ্চিত্রটি হাউসা ও ফুলানি ভাষায় নির্মিত একটি মহাকাব্যিক ঐতিহাসিক নাটক। এতে ১৭৯৩ থেকে ১৮৬৪ সাল পর্যন্ত সময়কালের নাইজেরীয় গবেষক ও কবি এবং উসমান দান ফোদিওর কন্যা নানা আসমার জীবন তুলে ধরা হবে।

রাহমা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও জিগাওয়া রাজ্য সরকারের অংশীদারত্বে একটি ‘চলচ্চিত্র নগরী’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার জমি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে ইরান কারিগরি জ্ঞান, সরঞ্জাম ও চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে প্রকল্পটির প্রধান অংশীদার হতে পারে।

রাহমার মতে, এই কেন্দ্র যৌথ চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি আয় সৃষ্টি করতে এবং আফ্রিকার চলচ্চিত্রশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে।

তিনি অ্যানিমেশন, ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের চলচ্চিত্র প্রদর্শন, নাইজেরিয়ার টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর সক্ষমতা কাজে লাগানো এবং সারা দেশে ইরানি চলচ্চিত্র পরিচিত করার ক্ষেত্রেও পূর্ণ সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানান। এ বিষয়গুলো তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুসরণ করবেন বলেও জানান।

রাহমা বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহযোগিতা করা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত দায়িত্বের একটি অংশ। তার মতে, এই সহযোগিতা শুধু ইরানকে সহায়তা করার বিষয় নয়; বরং মুসলিমদের ভাবমূর্তি সংশোধন, ইসলামি পরিচয় শক্তিশালী করা এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের তার সাংস্কৃতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ।

বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে নাইজেরীয় পক্ষের প্রাথমিক প্রস্তাব ছিল ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কার্যালয়ে ব্লগার ও সমমনা ইনফ্লুয়েন্সারদের নিয়ে একটি বিস্তৃত সভা আয়োজন করা, যাতে তারা ইরানি সংস্কৃতির সঙ্গে আরও পরিচিত হতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব নাইজেরিয়ার কিছু ইনফ্লুয়েন্সারকে সাধারণত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও যুদ্ধের পর তাদের মধ্যে ইরানের প্রতি বেশি সমর্থন দেখা গেছে।

রাহমার আরেকটি প্রস্তাব ছিল মাজিদ মাজিদির নির্মিত ‘মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা.)’ চলচ্চিত্রটি সারা নাইজেরিয়ায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা এবং দেশটির টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর মাধ্যমে এর সম্প্রচারের সময়সূচি নির্ধারণ করা।

উল্লেখ্য, রাহমা শরিফ আবদুলমজিদ নাইজেরিয়ার পরিচিত গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব। তিনি গণমাধ্যম, লেখালেখি, নাট্যরচনা, অনুবাদ, সাংস্কৃতিক কূটনীতি এবং সৃজনশীল শিল্পের উন্নয়নে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যমবিষয়ক (রেডিও ও সম্প্রচার) বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি শৈশবেই পরিবারে কোরআন শিক্ষা শুরু করেন। ২০০১ সালে শরিয়াহ আইনে ডিপ্লোমা অর্জনের পর কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস ও বিশ্ব অধ্যয়নে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

আফ্রিকায় এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের লেখালেখির পেশাগত যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। এ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ২০টিরও বেশি বই প্রকাশ করেছেন।

গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির পাশাপাশি রাহমা শিক্ষা, সাক্ষরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, গণমাধ্যম উন্নয়ন, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপের ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন। নাইজেরিয়ায় ‘হালাল বিনোদন’ এবং সাংস্কৃতিক ও ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গণমাধ্যম কনটেন্ট তৈরির প্রচারে তিনি সক্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha